বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি সমজাতীয় অন্যান্য দেশের তুলনায় এমনিতেই কম। তার ওপর সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই কমছে। সর্বশেষ গত জুনে পুঁজিবাজারে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কমেছে। ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে গত মাসের অর্ধেকের বেশি সময় পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল, যার কারণে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যানুসারে, গত জুনে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৫ কোটি ৩১ লাখ টাকায়, আগের মাসে যা ছিল ৫০৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে বিদেশীদের লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। গত এপ্রিলে ৪২৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, মার্চে ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ২৬৪ কোটি ১৪ লাখ ও জানুয়ারিতে ১৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকার লেনদেন করেছেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকায়।
দেশের পুঁজিবাজারে গত মাসে বিদেশীদের লেনদেন কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত মাসে ছুটির কারণে ১৫ দিনের মতো পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল। এ কারণে আগের মাসের তুলনায় লেনদেন কমে গেছে। তাছাড়া সার্বিকভাবে দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা কাজ করছি।’
চার বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। কভিডের বছর ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ২০২১ সালে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের হার নেমে যায় ১ দশমিক ১০ শতাংশে এবং টাকার অংকে যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৬৪ কোটিতে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এ দুই বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে দশমিক ৮৯ ও দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ সময়ে টাকার অংকে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ও ২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ছিল গত বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ১ দশমিক ২২ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। এ সময়ে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৭ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে। পুঁজিবাজারে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৩৯ শতাংশ। এ সময়ে সিরামিক ছাড়া সব খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। তাছাড়া অধিকাংশ বহুজাতিক ও বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারেও রিটার্ন ছিল ঋণাত্মক।